09 Jun 2018

“বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি” গঠনের ঐতিহাসিক পটভূমি

font size decrease font size decrease font size increase font size increase font size

ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের জনগণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে সব সময় প্রমাণ করেছে যে, এই দেশের মানুষ রাজনৈতিক ভাবে সচেতন। বৃটিশ বিরোধী আন্দালনের মাধ্যমে ১৯৪৭ সালে এ দেশ প্রথম স্বাধীনতা অর্জন করে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন সহ পরবর্তীতে পুরো পাকিস্তান আমলে বৈষম্য মূলক আচরণের প্রতিবাদে এবং বহু দলীয় গণতন্ত্রের জন্য এই দেশের জনগণ আমরণ সংগ্রাম করেছিল। যার ফলশ্রুতিতে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর এক রক্তক্ষয়ী মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে “বাংলাদেশ” নামক দেশটি পৃথিবীর মানচিত্রে আত্ম প্রকাশ করে স্বাধীনতা সংগ্রামের জাতীয় আদর্শ ও মূল লক্ষ্য ছিল দেশের ঐতিহ্য-সংস্কৃতির আলোকে এবং সংখ্যা গরিষ্ঠ জনগণের মতামতের ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক সরকার ও জাতীয় সংবিধান রচনা করা। স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতি অবলম্বন করা, দেশীয় অর্থনীতি ও প্রযুক্তি নির্ভর জাতীয় অর্থনীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে দেশের মানুষের ভাত কাপড় সহ জনগণের পাঁচটি মৌলিক চাহিদা পূরণ করা। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত কোন সরকারই স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল চেতনা তথা জনগণের মৌলিক চাহিদা পরিপূর্ণ ভাবে পূরণ করতে পারেনি। ক্ষমতার পালাবদলে এক পর্যায়ে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের পর থেকে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার তোয়াক্কা না করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করা, ভিন্ন রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার পায়তারা, ধর্মীয় মর্যাদার উপর আঘাত করা এবং প্রতিশোধের রাজনীতির মাধ্যমে দেশ অপশাসনের রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় লিপ্ত হয়। সেই দুঃশাসনের বিরুদ্ধে তৎকালীন প্রায় সকল দল এক সাথে প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে তোলে। এই পর্যায়ে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ঐক্যজোট এই চারটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা নেত্রীগণ এক সাথে বৈঠক করে চারদলীয় জোট গঠন করেন। পরবর্তীতে চারদলীয় জোটের দেশব্যাপী আন্দোলনের কারণে তৎকালীন সরকার বেসামাল হয়ে পড়ায় জোটভূক্ত দলের নেতাদের বিভিন্ন ভাবে আন্দোলন থেকে সরিয়ে নেয়ার অপকৌশল অবলম্বন করে। এই অপকৌশলে পা দিয়ে তৎকালীন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ৪দলীয় জোট ছেড়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলে দলের নেতাকর্মীগণ ৪দলীয় জোটে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং তৎকালীন জাতীয় পার্টির সিনিয়র নেতা অধ্যাপক এমএ মতিন কে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করেন ও মহাসচিব জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি জোটে থেকে যায়। পরবর্তীতে আন্দোলন সংগ্রাম শেষে ২০০১ সালের ১লা অক্টোবর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংদ নির্বাচনে জোটগত ভাবে অংশ গ্রহণ করে ডা: এমএ মতিন সহ জাতীয় পার্টি থেকে চার জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে জাতীয় পার্টির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় এবং এই কাউন্সিলে এই দলটি “বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি” নামে কার্যক্রম করবে বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

Rate this item
(0 votes)

সর্বাধিক পঠিত

গোবিন্দগঞ্জে প্রতিপক্ষের

গাইবান্ধা প্রতিনিধি :: প্রতিপক্ষের হামলায় নারীর গর্ভের

Read more

তৃতীয় উপসাগরীয় যুদ্ধ কি আসন্ন!

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তৃতীয় আরেকটি যুদ্ধ কি আসন্ন?

Read more

শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের পাওয়া

জেনেভা ক্যাম্পে শীর্ষ ও তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের পাওয়া

Read more

যে আমল করলে আল্লাহর ইচ্ছাতে

যে দোয়ার আমল করলে – নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

Read more

কুরআন বুঝার চেষ্টা করি।

পৃথিবীতে সবচেয়ে পরিশ্রমী পতঙ্গ হলো পিঁপড়া। তারপরে কে?

Read more

JPL DOOR & FURNITURE IND.

প্রতিষ্ঠিত ফার্নিচার কোম্পানীর জন্য দুইজন সচ্ছল

Read more

JPL DOOR & FURNITURE IND.

সমকামী নাটক প্রচার করে তোপের

 

 

 

ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে সমকামীদের অধিকার নিয়ে মোবাইল

Read more

ব্রেকিং নিউজঃ- নিন্দা ও

ব্রেকিং নিউজঃ- নিন্দা ও একাত্ততা প্রকাশ।

Read more